প্রচ্ছদ > রাজনীতি > বিএনপি

সংরক্ষিত নারী আসন বগুড়া বিএনপিতে আলোচনায় যেসব নারী নেত্রী

article-img

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও বগুড়ার সম্ভাব্য প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসেছেন। হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ১০ জন মনোনয়ন চাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলেও এখন পর্যন্ত ছয়জনের নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

মনোনয়নপ্রত্যাশী নেত্রীরা হলেন- বগুড়া জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাজাদী লায়লা আরজুমান বানু, সাধারণ সম্পাদক নাজমা আকতার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনি, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রহিমা খাতুন মেরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিহার সুলতানা তিথি, শাজাহানপুর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কোহিনুর আক্তার প্রমুখ। এদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ, তদবির ও আলোচনায় সুরাইয়া জেরিন রনি এগিয়ে আছেন।

শাহাজাদী লায়লা আরজুমান বানু : মরহুম বাবা অ্যাডভোকেট শাহ মো. মোজাম্মেল হকের অনুপ্রেরণায় তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৮৮ সালে আইন পড়াকালে তিনি রাজনীতিতে আসেন। ১৯৯১ সালে জেলা মহিলা দলের প্রাথমিক সদস্য হন। ১৯৯৬ সাল থেকে মহিলা দলে সক্রিয় হন। বগুড়া জজকোর্টের অতিরিক্ত পিপি লায়লা আরজুমান বর্তমানে জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হতে হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিশ্বাস তাকে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হবে।

নাজমা আকতার : বর্তমানে বগুড়া জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন নাজমা আকতার। তিনি ১৯৯৪ সালে সদর থানা ছাত্রলীগের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৮ সালে তিনি মহিলা দলে আসেন। ২০০৪ সালে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ২০০৬ সালে সদর উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী হন। নাজমা আকতার জানান, সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইচ্ছা প্রয়োজন। এবারে মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।

সুরাইয়া জেরিন রনি : বর্তমানে জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ২০০৩ সালে গাবতলী কলেজে প্রথমবর্ষে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ওয়ান ইলেভেনের পর রাজনীতিতে পুরোপুরে চলে আসেন। এখন জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদকের পাশাপাশি গাবতলী শাখার সভাপতি ও গাবতলী উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নির্বাহী সদস্য, জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, গাবতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। রনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক হামলা, মামলার শিকার হয়েছেন। তিনি দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনজরে আছেন। তাই প্রার্থিতা পাওয়ার বিষয়ে তিনি খুবই আশাবাদী।

অ্যাডভোকেট রহিমা খাতুন মেরী : বগুড়া জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে আছেন। তিনি ১৯৯১ সালে সরকারি শাহ সুলতান কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করেন। ২০০৪ সালে শাজাহানপুর উপজেলা কৃষক দল ও জাসাসের মহিলাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। শাজাহানপুর উপজেলা যুবদলের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা জিয়া পরিষদের সাবেক সদস্য। বর্তমানে আইন পেশার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে আছে। রহিমা খাতুন মেরী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি সাহস করে প্রথম মামলা করেন। তার বিশ্বাস দল তাকে মূল্যায়ন করবে।

নিহার সুলতানা তিথি : বগুড়া জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯২ সালে সরকারি মুজিবুর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সেখানে জিএস ও ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিথি জানান, ২০০৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিথি আশা করেন, দলের হাইকমান্ড তার অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা পর্যালোচনা করে তাকে প্রার্থী করবেন।

কোহিনুর আকতার : বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক লড়াই সংগ্রাম করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে মহিলা দলের রাজনীতিতে আছেন। কোহিনুর আকতার বলেন, দল যোগ্যতা বিবেচনা ও মূল্যায়ন করলে তিনি টিকিট পাবেন।

এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ-সদস্য মোশারফ হোসেন জানান, সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। এছাড়া বগুড়ার নারী প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কে প্রার্থী হবেন তার সবকিছু দলের হাইকমান্ডের ওপর নির্ভর করছে।